শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ১০:৪৩

একজনকে কুপিয়ে হত্যা।

ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : মাহবুবুর রহমান তপুকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ইমদাদুল হক আকাশ (২৩) আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন আর এই ঘটনা চুয়াডাঙ্গায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব, মানিক দাসের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
আত্মসমর্পণের পর আকাশের পক্ষে আইনজীবী জনাব, ইকবাল মাহমুদ জামিন প্রার্থনা করেন। অপরদিকে পুলিশের পক্ষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মেফাউল হাসান ইমদাদুলের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ১৬ নভেম্বর রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন এবং আসামি আকাশকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ইমদাদুল হক আকাশ চুয়াডাঙ্গা শহরের শান্তিপাড়ার ইউসুফ আলীর ছেলে। তিনি চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ৭ নভেম্বর যে কয়জন মাহবুবুর রহমান তপুকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন, তাঁদের দলনেতা এই ইমদাদুল।
পুলিশ জানায়, ইমদাদুলের নামে এর আগে শহরের কেদারগঞ্জ এলাকার গোলাম হোসেনকে হত্যা এবং আওয়ামী লীগ নেতা আইনজীবী শফিকুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টা মামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত কিশোর গ্যাং চুয়াডাঙ্গা শহরে বেপরোয়াভাবে একের পর এক অপরাধ ঘটিয়ে চললেও ভয়ে অনেকেই মামলা করতে সাহস পান না। এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অসংখ্য অপরাধের তথ্য–প্রমাণ প্রতিদিন পুলিশের হাতে আসছে। গত ৭ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা শহরের গুলশান পাড়ায় আল-হেলাল মাধ্যমিক ইসলামি একাডেমিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে হামলা চালিয়ে মাহবুবুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে এই কিশোর গ্যাং। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পরপরই মারা যায় মাহবুবুর। শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সামনে প্রকাশ্যে দিনের আলোয় এই খুনের ঘটনা ঘটিয়ে নিরাপদে এলাকা ছাড়ে হামলাকারীরা।
এই খুনের ঘটনায় নিহতের ভাই শহরের নূরনগর-কলোনিপাড়ার বাসিন্দা মাসুদুর রহমান বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৩ জনসহ ১০ জনকে আসামি করে ৮ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।