সোমবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:৩১

ছোট ভাইকে খুন করা হয়েছে ভাবির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে।

ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : ভাবির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার জেরে লাক মিয়া নামের এক যুবককে খুনের অভিযোগে উঠেছে আপন বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে আর এই ঘটনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায়। এ ঘটনায় বড় ভাই তারা মিয়া (২৩) ও ভাবি রুমা আক্তারকে (১৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (৩০ মে) বিকেলে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব, মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এমন অভিযোগ এনে বড় ছেলে তারা মিয়া ও পুত্রবধূ রুমা আক্তারকে আসামি করে পূর্বধলা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহতের বাবা আবু সিদ্দিক ফকির। এর আগে শনিবার (২৯ মে) বিকেলে ছোট ছেলে লাক মিয়াকে হত্যা করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস যাবৎ আবু সিদ্দিক ফকিরের বড় ছেলের স্ত্রী রুমা আক্তারের সঙ্গে ছোট ছেলে লাক মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে এই বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে লাক মিয়াকে খুনের পরিকল্পনা করে তারা মিয়া ও রুমা আক্তার। গত দুই দিন আগে আবু সিদ্দিক ও তার স্ত্রী আছমা খাতুন ঢাকায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সুযোগে বড় ছেলে ও তার স্ত্রী রুমা আক্তার ছোট ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
হত্যার পর আবু সিদ্দিক ফকিরকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়, লাক মিয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। তিনি ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে নিহত ছেলের থুতনিতে ও বুকে দাগ দেখতে পান। তা দেখে আবু সিদ্দিক ফকিরের সন্দেহ হয় লাক মিয়াকে তার বড় ছেলে ও পুত্রবধূ অজ্ঞাত আরও তিন থেকে চারজনকে সঙ্গে নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে পূর্বধলার ওসি জনাব, মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার (২৮ মে) বিকেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু এমন সংবাদে স্থানীয়রা ময়নাতদন্ত ছাড়াই ওই যুবকের মরদেহটি দাফন করতে চায়। মৃত্যু রহস্যজনক মনে হওয়ায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের বড় ভাই ও ভাবিকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলে বেরিয়ে আসে খুনের রহস্য।
এদিকে মামলা দায়েরের পরপরই সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওসি জনাব, মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।