মঙ্গলবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:০৫

চিকিৎসা সেবা পৌছেঁ দিচ্ছেন বাউফলের ডিপ্লোমা চিকিৎসকরা।

ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : ৩ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবা পটুয়াখালীর বাউফলের নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে জনগনের হাতের কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন বাউফলের বিএমডিসি রেজিস্টার্ড মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট প্রাকটিশনার তথা ডিপ্লোমা চিকিৎসক “উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারগন”।
উপজেলার যেকোন স্বাস্থ্য সংকটে নিরলসভাবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এই চিকিৎসকরা। বাউফলের ১৫ ইউনিয়ন এবং ১ টি পৌরসভার জন্য সর্বমোট ২১ জন “উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার” রয়েছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনে প্রতিটি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একটি, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে একটি ( স্বাস্থ্য বিভাগের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ টি করে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে।
নিয়োগ প্রাপ্ত এসকল উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারগণ ২৪ ঘন্টা গ্রামের ক্লিনিকগুলো থেকে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর জরুরী স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য সেবা, প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করেন।
কোন কোন উপজেলা এবং জেলায় গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক সংকট থাকায় এসকল উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররা জরুরী বিভাগ সহ আউটডোর, ইনডোরে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।
গত বছর কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে যখন চিকিৎসা ব্যবস্থা একবারে ভেঙ্গে পরার উপক্রম হয়েছিলো ঠিক সেই মুহৃর্তেও থেমে ছিলেন না বাউফলের এই চিকিৎসকরা। কোভিড-১৯ আক্রান্ত রুগির নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে নিরলশ ভাবে কাজ করে গিয়েছেন এই ডিপ্লোমা চিকিৎসকরা।
কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে উপজেলার ২১ “উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের মধ্যে ৫ জনই আক্রান্ত হয়েছিলো করোনায়।
বর্তমানে উপজেলার গ্রাম অঞ্চলের মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবার দূত হচ্ছেন এই ‘ডিপ্লোমা চিকিৎসকরা’ জনগনরা হাতের কাছেই পাচ্ছেন চিকিৎসা সেবা।
বগা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা সেতারা বেগম (৩৩) বলেন“বর্তমানে আমি মা হয়েছি, মা হওয়ার পূর্বে যত রকম দিকনির্দেশনা মেনে চলা দরকার সব পরামর্শই আমি এই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে পেয়েছি, আমাদের গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই এই স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে, বর্তমানে আল্লাহর রহমতে আমি এবং আমার বাচ্চা দু’জনেই সুস্থ আছি”।
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ছাড়াও বাউফলের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগেও সার্বক্ষনিক চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন ৬ জন ডিপ্লোমা চিকিৎসক।
বাউফলের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে থাকা ডিপ্লোমা চিকিৎসক “উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার” ডাঃ কে. এম. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন‘ সরকারের দেয়া নির্দেশনানুযায়ী মাঠ পর্যায়ে থেকে শুরু করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে থেকে আমরা চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছি। আমরা আমাদের সবোর্চ্চটুকু দিয়ে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করে থাকি। তবে আমাদের পরিশ্রম অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হলে আমাদের কাজে আরো স্পৃহা সৃষ্টি হবে।
আরেক ডিপ্লোমা চিকিৎসক “উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার” ডাঃ মোঃ নাঈমুজ্জামান খান বলেন“ প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশক্রমে দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে ডাক্তার ও নার্সদের পাশাপাশি আমরা এই ‘ডিপ্লোমা চিকিৎসকরা’ সমান ভাবে সেবা দিয়ে আসছি এবং ডিপ্লোমা চিকিৎসকরাই সব থেকে বেশি সেবা মূলক পরামর্শ দিয়ে থাকি, তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের চাওয়া দেশের এই ক্লান্তি মুহূর্তে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আমাদের (১৯৭৩-১৯৭৮)পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উচ্চশিক্ষা ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সাথে সকল ডিপ্লোমা যেমন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার,কৃষি ডিপ্লোমার ন্যায় ডিপ্লোমা চিকিৎসক তথা উপ সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের এই মুজিব বর্ষে ১০ম গ্রেড প্রদান করার জন্য জোর অনুরোধ জানাচ্ছি।
“এম.সাইদুর রহমান সংবাদদাতা বাউফল”