রবিবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৪৬

শিগগিরই কেটে যাবে ভ্যাকসিন প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা : স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : শিগগিরই কেটে যাবে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা বলেছেন মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনাব, জাহিদ মালেক।
তিনি বলেন, আমরা তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের জন্য অর্ডার দিয়েছিলাম (সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে) এবং অর্থ প্রদান করেছি। তবে আফসোসের বিষয় যে আমরা সঠিক সময়ে ভ্যাকসিনটি পাচ্ছি না, আমাদের টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় এজেন্ট, বেক্সিমকো এবং আমরা এর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারও ভ্যাকসিন আনার চেষ্টা করছে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি নিয়ে কাজ করছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে এই ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করেছেন। তাই আমরা আশা করি, আমরা দ্রুত ভ্যাকসিনটি পাব, তবে সঠিক সময়টি আমরা জানতে পারছি না। আমরা কয়েক দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে জানতে পারব।
বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জনাব, জাহিদ মালেক বলেন, সরকার চীন, রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও ভ্যাকসিন সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে একটি অগ্রগতি হয়েছে এবং আমরা মনে করি আমরা সেখান থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে সক্ষম হব।
তিনি বলেন, চীন ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে পাঁচ লাখ ভ্যাকসিন ডোজ সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সরকার এখন এটি গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, চাহিদার তুলনায় কম উৎপাদন হওয়ায় সারা বিশ্বে এই ভ্যাকসিনের সঙ্কট রয়েছে এবং ধনী দেশগুলো ভ্যাকসিনের ৭০ শতাংশ কিনেছে।
তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ভ্যাকসিন পেতে সরকার বেক্সিমকো ও সিরামকে চিঠি দিয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে তার বাংলাদেশ সফরকালে সময়মতো ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন এবং তিনি তা করার আশ্বাসও দিয়েছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তবে ভ্যাকসিন রফতানির বিষয়ে সে দেশের সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে সব দেশ ভ্যাকসিন পাবে।
তিনি বলেন, তারা শুনেছেন ভারত ভ্যাকসিন তৈরির জন্য ব্যবহৃত কাঁচামাল সঙ্কটের মুখোমুখি। ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল আমদানি করে। আমেরিকাও কাঁচামাল রফতানি স্থগিত রেখেছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রকদের দ্বারা স্বীকৃত টিকা অনুমোদনের জন্য ওষুধ প্রশাসনকে অনুমতি দিয়েছে।
তিনি বলেন, চীন ও রাশিয়ার ভ্যাকসিন অনুমোদনের জন্য একটি প্রক্রিয়া চলছে। তবে অনুমোদনের জন্য এই দেশগুলো থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য আমাদের কার্যক্রম থামেনি। আমরা এ ক্ষেত্রে অনেক এগিয়েছি।
মন্ত্রী বলেন, বেক্সিমকো এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস বাংলাদেশে রাশিয়ার ‘স্পুটনিক ভি’ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরিতে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, রাশিয়ান সংস্থাটির প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এটি এখন রাশিয়ার উপর নির্ভর করছে।
সূত্র : ইউএনবি