সোমবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:০৯

স্বামী তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।

ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাভলী আক্তারের সঙ্গে পরিচয় হয় প্রবাসে থাকা অবস্থায় এবং তারপর বিয়ে। তবে সেই ঘটনা তিন বছর আগের। তখনো লাভলী আক্তার জানতেন না তার ভালোবাসার মানুষ স্বামী শাহাদাত হোসেন আগেও আরেক বিয়ে করেছেন।
সম্প্রতি, স্বামী শাহাদাত হোসেন এবং স্ত্রী লাভলী আক্তার ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হতে শুরু করেন।
এক পর্যায়ে আত্মহত্যার হুমকি দেন লাভলী আক্তার। এতে মুষড়ে পড়েন স্বামী শাহাদাত হোসেন। তিনি লাভলী আক্তারকে অভয় দিয়ে বলেন, তোমাকে ভালোবেসে বিয়ের আগে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি। প্রবাসে অর্জিত সব অর্থ সম্পদ তোমাকেই দিয়েছি। তারপরও তোমাকে নিয়েই থাকতে চাই।
কিন্তু লাভলী আক্তার তাতেও তুষ্ট নয়। গত রোববার ঢাকার বাসা থেকে একাই ফিরতে চেষ্টা করেন লাভলী আক্তার। পরিস্থিতি ভালো নয়, তাই শাহাদাত হোসেন স্ত্রীর পিছু নেন।
একপর্যায়ে দুজনেই গ্রামের বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছেন। ততক্ষণে রাত। এবারও দুজনের ঝগড়া। ফের আত্মহত্যার হুমকি দেন লাভলী আক্তার। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলাতে না পেরে শাহাদাত হোসেন লাভলী আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) চাঁদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব, কার্তিক চন্দ্রের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্ত্রী লাভলী আক্তারকে হত্যার দায় স্বীকার করে এভাবে জবানবন্দি দেন শাহাদাত হোসেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে গত সোমবার দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বাচাইয়া গ্রামের একটি বিল থেকে লাভলী আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কচুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, এই ঘটনার পর পুলিশ বিশেষ কৌশলে অবলম্বন করে শাহাদাত হোসেনকে আটক করে।
কচুয়ার সহদেবপুর গ্রামের মাকসুদ আলীর মেয়ে লাভলী আক্তার। তিন বছর আগে পাশের মনপুরা গ্রামের আব্দুল মান্নানের প্রবাস ফেরত ছেলে শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের দুজনের সম্পর্ক হয়।
এদিকে, প্রবাস থেকে দেশে ফিরে লাভলী আক্তারকে বিয়ের আগে শাহাদাত হোসেন তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে তালাক দেন। ওই সময় তাদের দুই শিশু সন্তানও মাকসুদা বেগমের সঙ্গে চলে যায়। এরপর রাজধানী ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী আক্তারকে নিয়ে শাহাদাত হোসেন বসবাস শুরু করেন।
ওসি আরও জানান, পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর এবং আদালতেও বারবার শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী আক্তারকে তিনি প্রচন্ড ভালোবাসেন। কিন্তু প্রতিনিয়ত ঝগড়াঝাটির কারণে অসহ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রিয় মানুষটিকে গলা টিপে হত্যা করতে বাধ্য হন তিনি।