রবিবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০২

একটি চিরকুটের সূত্রে ধরা পড়ল হত্যাকারীরা।

ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : ময়মনসিংহে অটোভ্যান চালক স্কুলছাত্র সিয়াম হত্যাকান্ডে জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তা আবার কবরের ওপর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির রেখে যাওয়া চিরকুটের সূত্র ধরে। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানের যন্ত্রাংশ। অটোভ্যান ছিনতাইয়ের জন্যই তাকে হত্যা করে একই এলাকার দুই কিশোর।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ কামাল আকন্দ জানান, ফুলপুরের ভাইটকান্দি হাইস্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র সিয়াম (১৩) পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের পড়ালেখার খরচ চালাতে ভাড়ায় অটোভ্যান চালাতো। গত শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে অটোভ্যান নিয়ে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে তারাকান্দার কাকনী ব্রিজের নিচে ডোবায় তার লাশ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় তারাকান্দা থানায় নিহতের বাবা মকবুল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে।
তদন্তভার পেয়ে অনুসন্ধান শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ঘটনার দুইদিন পর সিয়ামের কবরে ফুলপুরের বড় শুনুই গ্রামের খাইরুল ও মিজানের নাম লেখা একটি চিরকুট পায় ডিবি পুলিশ। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে ঘটনার পর থেকে ওই দুই কিশোর বাড়িছাড়া। এতে সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে বুধবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) আব্দুল হালিমের ছেলে খাইরুল ইসলাম (১৬) ও উলাস উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান মেজু (১৭) নামে দুই কিশোরকে গ্রেফতার করে ডিবি। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে তারা।
পরে তাদের দেয়া তথ্যমতে, ময়মনসিংহ নগরীর র‌্যালির মোড়ের একটি দোকান থেকে ছিনতাইকৃত অটোভ্যানের যন্ত্রাংশ উদ্ধারসহ দোকান মালিক রতন কুমার সাহাকে গ্রেফতার করা হয়। সিয়ামকে হত্যার পর ময়মনসিংহ নগরীর র‌্যালির মোড় এলাকায় রতন কুমার সাহার কাছে ৫ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করে হত্যাকারীরা।
অটোভ্যানটি ছিনতাইয়ের জন্যই সিয়ামকে হত্যা করা হয়েছে বলে গ্রেফতারকৃত দুই কিশোর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
এদিকে, হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্বজনেরা। নিহতের বাবা মকবুল হোসেন জানান, তার ছেলে পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য মাঝে মাঝে অটোরিকশা বা অটোভ্যান চালাতো। তার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চান তিনি।
বৃহস্পতিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতার দুই কিশোর খাইরুল ও মিজান। তাদের গাজীপুরের কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক জনাব, দেওয়ান মনিরুজ্জামান।
রাতেই তাদের গাজীপুর কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ কামাল আকন্দ।