মঙ্গলবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:২৮

রোহিঙ্গা কর্মচারীরা আনোয়ারকে হত্যার পর মাটিচাপা দেয় এবং লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : জাতীয় পার্টি (জাপা) নেতা আনোয়ার হোসেনের (৪২) নিখোঁজের এক মাসের মাথায় শুক্রবার রাত দেড়টায় মাটি খুঁড়ে গলিত লাশ উদ্ধার করেছে লোহাগাড়া পুলিশ আর এই ঘটনা চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা।
লোহাগাড়ার দরবেশহাট সওদাগরপাড়া নিজ বাড়ি সংলগ্ন খামারবাড়িতে তাকে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করার পর তার দেয়া তথ্য এবং দেখানো মতে পুলিশ খামার বাড়ির পেছন থেকে মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করেছে বলে জানান লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন মাহমুদ।
আনোয়ার লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের মৃত আহমদ সওদাগরের ছেলে। পেশায় তিনি গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। তার গরুর খামার রয়েছে।
জানা গেছে, খামার বাড়িতে গরু দেখভাল করতেন দুই রোহিঙ্গা যুবক। নিখোঁজের কিছুদিন আগে রোহিঙ্গা কর্মচারীদের সঙ্গে আনোয়ারের ঝগড়া হয়। হয়তো সে ক্ষোভে বা আনোয়ারের সঙ্গে থাকা টাকা আত্মসাৎ করতে তারা আনোয়ারকে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে স্বজনরা।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ২ থেকে ৩ জন অংশ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই রোহিঙ্গা যুবককে আমরা চিহ্নিত করেছি। ইতোমধ্যে টেকনাফের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে একজনকে আটকের পর তিনি জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ারকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এবং তার দেখানো মতে শুক্রবার রাতে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন লোহাগাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন। পরিবার থেকে তখন বলা হয়েছিল আনোয়ারকে কেউ তাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে এবং নিখেঁজের কয়েক দিনের মাথায় অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করা হয়েছে। পরে পুলিশ তদন্ত করে বুঝতে পারে টাকা চাওয়ার বিষয়টি স্রেফ প্রতারণা।
এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেনের ছোটভাই মো. সেলিম বাদী হয়ে লোহাগাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। নিখেঁজের পর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন, গত ৩১ ডিসেম্বর আনোয়ার তার দরবেশহাট সওদাগরপাড়া এলাকার খামারবাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে টমটমযোগে বটতলী মোটর স্টেশনে ফোরকান টাওয়ারে তার বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। তিনি কোনো আত্মীয়স্বজনের বাসায়ও যাননি।
এদিকে আনোয়ারকে জীবিত ফিরে পেতে পরিবার ও বিভিন্ন সংগঠনের উধ্যোগে লোহাগাড়াতে, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।