মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:৪৭

প্রতারক চক্রের ৩ জন সদস্য সিআইডির জালে গ্রেফতার হয়েছে।

ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : এক ব্যবসায়ীর করা প্রতারণার মামলায় নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি আর এই ঘটনা নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি টেলিফোন সেট, ছয়টি মোবাইল, মসজিদ ও বিল্ডিং তৈরির নকশা জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকার মাতুয়াইল মহিলা মাদরাসার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন থেকে প্রতারণার মাধ্যমে মাধ্যমে এক কোটি ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।
শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে গ্রেফতারকৃতদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তারা হচ্ছেন- নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াই হাজার থানার বালিয়াপাড়া এলাকার রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে সুরুজ্জামান মিয়া (৫১), যশোর জেলার বাগারপাড়া থানার জামালপুর এলাকার আজগর আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান দিপু (২৫) ও নরসিংদী সদর উপজেলার খাকসিয়া পাঁচদোনা এলাকার সুন্দর আলীর মেয়ে রিনা বেগম (৪০)। তবে তারা একাধিক ছন্দনাম ব্যবহার করে আসছিল।
সিআইডি জানায়, গ্রেফতারকৃত হাবিবুর রহমান দিপুর কোরিয়ান কোম্পানিতে কাজ করে পরিচয় দিয়ে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর দেওটি ইউনিয়নের ফার্নিচার ব্যবসায়ী ও মাদরাসার শিক্ষক মো. ফারুকের কাছ থেকে জুন মাসে ১০ লাখ টাকার ফার্নিচার ক্রয় করবেন বলে কোটেশন চান। এর কয়েকদিন পর তার সঙ্গে দেখা করার জন্য চট্টগ্রাম রোডে সাইনবোর্ড সংলগ্ন সাদ্দাম মার্কেটের পাশে তাদের অফিসে ডেকে নেন ব্যবসায়ী ফারুককে।
অফিসে গেলে কোম্পানির ভুয়া এমডি জামিল, এমডির বোন জামিলা, ম্যানেজার আল আমিন, কান্ট্রি ম্যানেজার জহির, জমির ক্রেতা ফয়সাল ও জমি বিক্রেতা আব্দুল হামিদ পরিচয় দিয়ে কোম্পানির নামে একটি জমি কিনবেন বলে ফারুককে জানান। পরে তারা বায়নাপত্র করে ও জমি কিনতে দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা লাগবে বলে ফারুকের কাছে টাকা চায়।
তাদের কথায় নগদ ১০ লাখ ও বিভিন্ন সময় আরও পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন ফারুক। পরবর্তীতে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই ব্যক্তিদের আসামি করে সোনাইমুড়ী থানায় মামলা করেন ফারুক।
এছাড়া এই চক্র চাঁদপুরেও এক ফার্নিচার ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন স্কুলে ফার্নিচার লাগবে বলে ও এক প্লাস্টিক সামগ্রী বিক্রেতাকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
সিআইডি নোয়াখালীর বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব, মো. বশির আহমেদ জানান, গ্রেফতারকৃতরা মোবাইল নম্বর ও বাসা পরিবর্তন করে বিভিন্ন ব্যক্তি থেকে প্রতারণার মাধ্যমে মোট এক কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
প্রতারক চক্রের অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।