বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:৩৯

স্ত্রীর জামিন বাতিল করা হয়েছে চিকিৎসক আকাশের আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায়।

ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : মোস্তফা মোরশেদ আকাশ তিনি চট্টগ্রামের চিকিৎসক এবং তার আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় তার স্ত্রী ডা. তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব, শফিউদ্দিন তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী জনাব, ওয়াহিদুল ইসলাম চৌধুরী।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন মিতু। জামিন নেয়ার পর থেকে ধার্য তারিখে একবারও হাজির হননি। আদালতে হাজির না হওয়ায় ২০২০ সালের ৪ মার্চ মিতুকে শোকজ করা হয়।
কিন্তু শোকজের জবাব দেননি মিতু। এছাড়াও গত ৩১ আগস্ট আসামিপক্ষের আইনজীবী মিতুর মামলা পরিচালনা করবেন না বলে আদালতে লিখিতভাবে অবহিত করেন।
এসবের পরিপ্রেক্ষিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালত থেকে নেয়া জামিন বাতিলের আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে মিতুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি ভোরে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার নিজ বাসায় ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন চিকিৎসক আকাশ। আত্মহত্যার আগে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক’ ও ‘প্রতারণার’ অভিযোগ করে যান।
এর প্রমাণ হিসেবে মিতুর সঙ্গে তার বন্ধুদের বেশ কিছু ছবিও তিনি আপলোড করেন। এই ঘটনা চট্টগ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ওই রাতেই নন্দনকানন এলাকায় এক আত্মীয়র বাসা থেকে মিতুকে আটক করে পুলিশ।
পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি ডা. আকাশের মা জোবেদা খানম বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় মিতুকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সাত মাস পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন মিতু। তবে অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- চিকিৎসক আকাশের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতু, তার (মিতুর) মা শামীমা শেলী, বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, ছোটবোন সানজিলা হক চৌধুরী আলিশা এবং মিতুর কথিত বন্ধু ডা. মাহবুবুল আলম। তবে এই মামলায় মিতুর অপর বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ভারতীয় নাগরিক উত্তম প্যাটেলকে চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।