মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৩৭

পেঁয়াজে পচন এবং দিশেহারা চাষিরা।

ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : পেঁয়াজে পচন এবং দিশেহারা চাষিরা। পাবনায় সংগৃহীত পেঁয়াজে অসময়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পচন। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তৈরি আধুনিক সংরক্ষণাগারে রেখেও ঠেকানো যাচ্ছে না এই পচন রোগ। ইতোমধ্যেই দেশি ও হাইব্রিড জাতের সংরক্ষিত পেঁয়াজের প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও অসময়ের এই বিপর্যয়ে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
কৃষকরা জানান, সাধারণত বাংলা কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে সংরক্ষিত পেঁয়াজে পচন ধরা বা অঙ্কুরোদ্গম দেখা গেলেও এবার ভরা আষাঢ় মাসেই এমন বিপর্যয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।
চাটমোহর উপজেলার সোহাগবাড়ী এলাকার পেঁয়াজ চাষি ফজলু বলেন, এবার ৪০০ মণের মতো পেঁয়াজ রেখেছিলাম। কিন্তু এখনই প্রায় ১০০ মণের বেশি পেঁয়াজে পচন ধরেছে। বাধ্য হয়ে নামমাত্র দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে মণপ্রতি প্রায় হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অসময়ের এই পচনের পেছনে মূলত অতিরিক্ত হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ চাষ, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দায়ী। বেশি ফলনের আশায় কৃষকরা এবার প্রচুর হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন, তবে এ জাত দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের উপযোগী নয়। পাশাপাশি রোপণ ও উত্তোলনের সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, বাতাসে আর্দ্রতা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে পেঁয়াজে আর্দ্রতা থেকে যায়। এছাড়া বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আধুনিক সংরক্ষণাগারগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হওয়ায় পচনের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।