সোমবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:১৬

ব্যবসা বানিজ্য ও উদ্যোক্তা হিসাবে পিছিয়ে নয় পাহাড়ি নারীরা।

ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : পাহাড়ি নারীদের সবজি বিক্রেতার অবস্থান চোখে পড়ার মতো খাগড়াছড়ির জেলার সীমান্তবর্তী পানছড়ি বাজারগুলিতে। হত দরিদ্র পরিবারের পাহাড়ি নারীরা দুর্গম উঁচুনিচু পাহাড় পাড়ি দিয়ে বন জঙ্গল থেকে বিভিন্ন সবজি আহরণ করে বিক্রি করতে দেখা যায়। যেমন আরো অনেকে কেউ কেউ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন সবজি জাতীয় ফলমূল কিনে এনে বিক্রি করছেন। এসব বিক্রি করেই আয়ের টাকা দিয়ে তাঁদের সংসার চলে। বলছি, পানছড়ি উপজেলার পূজগাং বাজার একটি ছোট্ট গ্রাম্য বাজারের কথা। পুজগাং নিচের বাজার নামেই সবার পরিচিত। এ বাজারে জুমে চাষ করা ফলমূল আর বন জঙ্গল থেকে আহরন করে নিয়ে আসা টাটকা সবজি বিক্রি হয়। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী গ্রামের নিত্য প্রতিদিন মানুষের সবজির চাহিদা মিটায় এই বাজার থেকে। তাই প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে পুজগাং বাজারে এসে ক্রেতারা ভীড় জমায়। সরেজমিনে পুজগাং নিচের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতাদের মধ্যে নারীরা সবচাইতে এগিয়ে। বেশীর ভাগেই নারীরা কাঁচা তরকারী বিক্রি করেন। সারা বছরই এখানে পাওয়া যায় বন-জঙ্গল থেকে আহরিত নানান ফল আর শাক-সবজি। মূলত দরিদ্র নারীরা সংসারের টানাপড়েন কমাতে বুনো সবজি সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসেন বিক্রয়ের জন্য। আর এসব ভেজালমুক্ত সবজি কিনতে ক্রেতারাই প্রতিদিন সকাল-বিকাল এ বাজারে ভিড় জামান। এ বাজারে বিক্রেতাদের মধ্যে হাতেগোনা দু’য়েকজন পুরুষ চোখে পড়লেও বেশীরভাগই সবাই নারী বিক্রেতা। জুমে চাষ পদ্ধতিতে চাষ করা জমি, উৎপাদিত ফলমূল এবং বন জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করা অল্প অল্প করে হলেও নানান জাতের সবজি নিয়ে বিকেলে বিক্রি করতে চলে আসেন তাঁরা। সবজির মধ্যে বাঁশকুড়ল, তারাগাছ, কচুশাক, কচুলতি, কাঁচা-পাকা পেপে, থানকুনি পাতা থেকে শুরু করে কলার মোচা উল্লেখযোগ্য। যেগুলোর অধিকাংশই প্রকৃতি থেকে আহরিত শাক-সবজি।
পুজগাং বাজারে সবজি কিনছিলেন সদর ইউপি মেম্বার ডাঃ মতিউর রহমান বলেন কীটনাশক ও ফরমালিন মুক্ত সবজি ও ফল মুল কিনতে প্রায়ই উক্ত বাজারে যায়। আরো বলেন তাতুমনি চাকমা। তখন তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে বনের ভেজালমুক্ত শাক-সবজি তাই প্রতিদিন প্রয়োজন মতো কিনে নিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, পাহাড়ের উঁচুনিচু পথ পাড়ি দিয়ে সবজি সংগ্রহ করে বিক্রি করা খুবই কষ্টের। তবুও এ কষ্টের বিনিময়ে আয় করা টাকা দিয়ে পরিবারের খরচ যোগান দেয়া কিছুটা হলেও সম্ভব হবে। এভাবে একে অপরকে দেখে নারীরা এখন বসে না থেকে পরিবারের খরচ যোগান দিচ্ছে। নারীদের মধ্যে সবজি আহরন করে বিক্রি করার সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। নারী সবজি বিক্রেতা রুপালি তিপুরা বলেন, উঁচু-নিচু পাহাড়ের পিচ্ছিল পথ পাড়ি দিয়ে ঝাড়-জঙ্গল থেকে সারাদিন বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি কুড়িয়ে এনে বিকেলে এ বাজারে বিক্রি করি। সবজি বিক্রি করে দৈনিক ২ শত থেকে ৩শত টাকা পান তিনি। এ টাকা দিয়েই পরিবারের খরচ যোগান দেন তিনি।
এ পুজগাং বাজারে ভেজালমুক্ত শাক-সবজি কিনতে প্রতিদিন পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের লোকেরা ভীড় জমান।
“মোঃ চাঁন মিয়া সংবাদদাতা পানছড়ি (খাগড়াছড়ি)”