রবিবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:০৩

শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে, চুরি করতে এসে।

ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : শিক্ষার্থী তৌহদিুল ইসলাম খানকে (২৫) হত্যায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই আর এই ঘটনা ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নগরীর জামতলা পোড়াবাড়ী এলাকার হারুন অর রশীদের ছেলে রিফাত (২৩) ও নগরীর আউটার স্টোডিয়াম এলাকার মৃত আঃ রাজ্জাকের ছেলে মোঃ মহসিন মিয়া (২৫)।
নিহত তৌহিদুল নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া থানার রামেশ্বরপুর গ্রামের সাইকুল ইসলামের ছেলে। সে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলো। পড়াশোনার সুবাদে ময়মনসিংহের শহরের গোহাইলকান্দি তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় সোলায়মানের বাসায় মেস ভাড়া নিয়ে থাকত।
শনিবার (১০ জুলাই) রাতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নগরীর জামতলা পোড়াবাড়ী এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে থেকে রিফাতকে ও আউটার স্টোডিয়াম এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মহসিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসাইন বলেন, রিফাত, আশিক, মহসিন ও অন্তর নামে এই চারজন একসাথে চলাফেরা করত। গত বছরের শুক্রবার (১ মে) রাত তিনটার দিকে তারা সবাই মহসিনের বাসায় ইয়াবা সেবন করে। ওই রাতে আশিক তাদের ইয়াবা খাওয়া শিখিয়েছিল। ইয়াবা খাওয়া শেষ হলে আশিক বলে চল একটা মোবাইল চুরি করে নিয়ে আসি। তখন মহসিনের বাসা থেকে অন্তর তার নিজের বাসায় চলে যায়।
তখন রিফাত, আশিক ও মহসিন তিনকোনা পুকুর পাড় এলাকার সোলায়মানের ওই বাসায় যায়। বাসার নিচ তলার মেসের রুমে শিক্ষার্থী তৌহিদ থাকত এবং আশিক তাকে আগে থেকেই চিনত। ওই তিনজন বাসার ছাদ দিয়ে টপকে মেসে তৌহিদের রুমে যায়। তখন তৌহিদ রোজার মাসে সেহরী খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং তৌহিদের স্মার্ট ফোনটি জানালার পাশে টেবিলের উপর রাখা ছিল।
তিনি বলেন, প্রথমে মহসিন জানালা দিয়ে মোবাইলটি নিতে গেলে তৌহিদ দেখে ফেলে। পরে তৌহিদ দরজা খুলে বাহিরে আসলে আশিক তৌহিদকে জাপটে ধরে এবং রিফাত হাত ধরে। তখন মহসিন দেড়হাত লম্বা লোহার রড দিয়ে তৌহিদের বুকে ঘাই মারে। আশিকও তৌহিদকে মেরে রক্তাক্ত জখম করে।
এমতাবস্থায় তৌহিদ ডাক চিৎকার শুরু করলে সবাই দ্রুত পালিয়ে মহসিনের বাসায় যেয়ে ঘুমিয়ে পরে। বাসার মালিক তৌহিদকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভোর ৫ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওইদিনই নিহতের বাবা সাইকুল ইসলাম কোতোয়ালি মডেল থানায় বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি অধিকতর তদন্তভার আসে পিবিআই ময়মনসিংহের কাছে। কিন্তু তারা গাঁ ডাকা দিয়েছিল।
এ বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার জনাব, গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড ছিলো। সামান্য একটি মোবাইল চুরি করতে যেয়ে শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে। এদেরকে ধরতে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়েছে। শুক্রবার তারা ময়মনসিংহে নিজের বাসায় আছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়৷ শনিবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।