শনিবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, রাত ২:৩০

গ্রেফতার হয়েছে মা, মেয়েকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করার ফলে।

ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : মায়ের দেয়া আগুনে দ্বগ্ধ হয়ে স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় নিহতের মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ আর এই ঘটনা গাজীপুরের বাসন থানার চান্দনা এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন বাসন থানা পুলিশ তাকে ওই এলাকা থেকেই গ্রেফতার করে।
এর আগে সন্ধ্যায় মা হেলেনা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা বজলুর রহমান। নিহত উম্মে হুমায়রা বিজলী বরিশালের মুলাদী থানার বাহাদুরপুর এলাকার মো. বজলুর রহমানের মেয়ে এবং গাজীপুর পুলিশ লাইনস স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো। গ্রেফতার হেলেনা বেগম বরিশালের মুলাদী থানার বাহাদুরপুর এলাকার মো. হানিফ খানের মেয়ে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন বাসন থানার ওসি (তদন্ত) জনাব, শেখ মিজানুর রহমান জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বাসন থানার চান্দনা এলাকার বুড়ির মোড় নামক স্থানে জনৈক নুরুল ইসলামের বাড়িতে দ্বিতীয় তলায় স্ত্রী হেলেনা বেগমসহ দুই মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থেকে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন বজলুর রহমান। তার বড় মেয়ে উম্মে হুমায়রা বিজলী স্থানীয় গাজীপুর পুলিশ লাইনস স্কুলে দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।
গত ২১ মে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মেয়ে বিজলীকে শাসন করছিলেন মা হেলেনা বেগম। শাসনের একপর্যায়ে মেয়ে বিজলীর গায়ে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে বিজলীর শরীরের বিভিন্ন স্থান দগ্ধ হয়। পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচদিন পর বুধবার দুপুরে বিজলী মারা যায়।
তিনি আরো জানান, নিহতের কক্ষ থেকে কেরোসিনের একটি খালি বোতল উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মেয়ের শরীরে কেরোসিন ব্যবহার করেই আগুন দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে হেলেনার বিরুদ্ধে তার স্বামী বজলুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে রাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠানো হয়েছে।