সোমবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:২৮

এক যুবক বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন।

ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : এনজিওর ঋণের চাপে রুবেল মিয়া (৩৫) নামে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক যুবক বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন আর এই ঘটনা গাজীপুরের শ্রীপুরে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। শনিবার (০১ মে) দুপুরে উপজেলার ডোমবাড়িচালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রুবেল মিয়া ডোমবাড়িচালা গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে।
রুবেল মিয়ার স্ত্রী সেলিনা আক্তার বলেন, রুবেল শারীরিক প্রতিবন্ধী। সংসারে আরাফাত, শাহাদাত ও রুমেলা নামে তিন সন্তান আছে। প্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করেছি। চাষে টাকার সংকট পড়ায় পিদিম ফাউন্ডেশন জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি শাখা থেকে পাঁচ মাস মেয়াদি ২০ হাজার টাকা ঋণ নিই। ১০ মার্চ মেয়াদ শেষ হলেও ঋণ পরিশোধ করতে পারিনি। পুরো টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম সবজিচাষে। বুধবার (২৮ এপ্রিল) পিদিম ফাউন্ডেশনের মাঠকর্মী নাঈম বাড়িতে এসে ঋণের টাকার জন্য চাপ দেন। শনিবার (০১ মে) ঋণের টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে নাঈম চলে যান।
সেলিনা আক্তার আরও বলেন, শনিবার পর্যন্ত কোনো টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। মাঠকর্মী টাকার জন্য এলে তাকে কিছুক্ষণ পর আসতে বলেন রুবেল। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে দুপুরে কীটনাশক পান করেন রুবেল। তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান রুবেল।
তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তারেক হাসান বাচ্চু বলেন, পারিবারিক নানা ঝামেলা ও ঋণের টাকা জোগাড় করতে না পেরে রুবেলের বিষণ্নতা তৈরি হয়। হতাশা থেকেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি। তবে লকডাউনের মধ্যে ঋণের টাকা আদায় বন্ধ রাখা উচিত ছিল।
রাশেদুল আলম আরও বলেন, ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় বুধবার মাঠকর্মী তার বাড়িতে গিয়েছিল টাকা আদায়ের জন্য। শনিবার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। পরে আমরা জানতে পারি রুবেল আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি দুঃখজনক।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জিন্নাহ বলেন, রুবেল প্রতিবন্ধী ছিলেন। ঋণ ও পারিবারিক বিভিন্ন কারণে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। এনজিও ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। এসব কারণে আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।