ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : বাউফলের সাংবাদিক এম. সাইদুর রহমানের তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়, পটুয়াখালীর বাউফলে ঘরের সিঁদ কেটে অভিনব কায়দায় চুরির ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ রবিবার (১৮ই জুলাই) উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ছত্রকান্দা গ্রামে আব্দুল গফ্ফার ফকির মিয়ার বাড়িতে এই চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া ঘরটির মালিক মোঃ রিপন ফকির (৩৪)। অদ্য রাত আনুমানিক ২টার দিকে এই দূর্দর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। রিপন ফকির আব্দুল গফ্ফার ফকিরের মেঝ ছেলে।
স্থানীয়দের সুত্রে থেকে যানা যায়, মোঃ রিপন ফকির (৩৪) দীর্ঘ দিন ধরে ইটভাটার মেস্ত্ররী কাজ করে আসছেন। তিনি প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরেও প্রায় ১২টি ইটভাটার কোম্পানির সাথে কাজ করার চুক্তি করেন।কোম্পানির সাথে চুক্তির বাবত দশ লাখ টাকা দাদন নেন বগা সোনালী ব্যাংকে তার একাউন্টের মাধ্যমে। রিপন ফকির কোম্পানির সাথে লেনদেন করেন বগা সোনালী ব্যাংক শাখায়। সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে গতকাল (১৩ই জুলাই) রিপন ফকির চার লাখ টাকা তুলেন শ্রমিকদের দাদন দেওয়ার জন্য। ওই টাকা বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং বসতঘরে রাখা আলমারির ডয়ারে রেখে দেন।
এক সাক্ষাৎকারে রিপনের স্ত্রী কনা বেগম প্রতিবেদককে বলেন, গতকাল (১৩ই জুলাই) বিকালে হঠাৎ কোম্পানি থেকে ফোন করেন তাকে জরুরি কাজে ঢাকা যাওয়ার জন্য। আমার স্বামী (রিপন) কোম্পানির ফোন পেয়ে বগা লঞ্চ ঘাট থেকে লঞ্চ যোগে ঢাকার উদ্দেশ্য যান। বাড়িতে আমার দুই কন্যা সন্তান ও আমার বোন বিউটি বেগম (৩০)। আমার বড় বোন বিউটি বেগম রাত আনুমানিক ২টার দিকে ওয়াস রুমে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠেন এবং লাইট জালিয়ে দেখতে পায় ঘরের দক্ষিণ দিকের দর্জার নিচের দিকে সিঁদ কাটা। তখন আমরা চিৎকার শুরু করলে বাড়ির আশেপাশের লোকজন আতংকে ঘুম থেকে উঠে সবাই এই অবস্থা দেখতে পেয়ে তারাও ডাক চিৎকার শুরু করে। ঘরের ভিতরের সব লাইট জালিয়ে দেখতে পায় আলমারির ডয়ার ভাঙ্গা এবং ঘরের আসবাবপত্র সবকিছু এলোমেলো। পরবর্তীতে রিপনের স্ত্রী কনা বেগম দেখতে পায় তার স্বামীর রেখে যাওয়া ৪ লাখ টাকা, ছাগল বিক্রি করা ১০ হাজার টাকা, কানের দুল একজোড়া, দুটি সোনার চেইন, রুপার চেইন চারটি ও রুপার নুপুর পাঁচ জোরা সহ মোট সাত ভরি স্বর্নলংকার চুরি হয়ে গেছে। তাছাড়াও ব্যাংকের চেক সহ অনন্য কাগজপত্র বিভিন্ন জায়গায় এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়।
এমতাবস্থায় সকাল ৭টার দিকে বাউফল থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে ফোন করলে থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং বগা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস,আই আঃ সালাম ঘটনার পর্যাবেক্ষন করেন। পরে ঘটনা শুনে কাছিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব, মোঃ রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ সুমন হাওলাদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তারা ঘটনার সততা নিশ্চিত করে বলেন, কে বা কাহারা চুরি করেছে কেউই দেখেনি তবে ঘটনা যাঁরাই করুক বা ঘটনার সাথে যারাই জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠিন বিচার করতে হবে।
এ বিষয় বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জনাব, আল-মামুন বলেন, আমার কাছে ফোন আসার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে আমি পুলিশ পাঠিয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পর্যাবেক্ষন করেছে। আমি এখনও চুরির লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।