সোমবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:২২

বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম যমুনা গর্ভে।

ডেইলি ক্রাইম বার্তা ডেস্ক : গ্রামের পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর, স্থাপনাসহ ২ হাজার বিঘার ফসলি জমি যমুনা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে যমুনা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম।
এদিকে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকরী ব্যবস্থা না নেওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে যমুনা পাড়ে মিছিল, মিটিং ও মানববন্ধন করেছে।
ইউনিয়নগুলি হলো- বাঘুটিয়া, খাসপুখুরিয়া, ঘোরজান, স্থল ও উমারপুর। গ্রামগুলি হলো- শাকপাল, উত্তর খাসপুখুরিয়া, দক্ষিণ খাসপুখুরিয়া, রেহাইপুখুরিয়া, চর নাকালিয়া, চর বিনানুই, হাটাইল, চর সলিমাবাদ, দক্ষিণ চর সলিমাবাদ, ভূতের মোড়, মেটুয়ানি, আরমাশুকা, বীর বাউনিয়া, খাসপুখুরিয়া, ঘাগুটিয়া, চৌবাড়িয়া, হাপানিয়া, চর সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া সহ ২০টি গ্রাম। সূত্র : দেশ রূপান্তর।
এ বিষয়ে শুক্রবার কথা হয় বীর বাউনিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম, শাকপাল গ্রামের আইয়ুব আলী, খাসপুখুরিয়া গ্রামের আব্দুল মালেক, মেটুয়ানি গ্রামের গোলাম মোস্তোফা, বাঘুটিয়া গ্রামের আবু মুছা, চর সলিমাবাদ গ্রামের কামরুল ইসলাম, ঘুষুরিয়া গ্রামের সেলিম হোসেন, সম্ভুদিয়া গ্রামের সালাউদ্দিনের সঙ্গে। তারা জানান, এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকেই চৌহালী উপজেলার এ ৫টি ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। এরইমধ্যে শতাধিক বাড়িঘর, ২ হাজার বিঘা ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে মানুষ বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে।
চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহার সিদ্দীকি বলেন, প্রায় এক যুগ ধরে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের গ্রামগুলি যমুনা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে। গ্রামগুলি ভাঙতে ভাঙতে ক্রমশ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এ ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে এ সব এলাকার শত শত ঘরবাড়ি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও ফসলি জমি একের পর এক যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে এ উপজেলার অন্তত ১০ হাজার মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে তারা আন্দোলন শুরু করেছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, চৌহালীর ভাঙন রোধে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। তারা এ বিষয়ে কি ব্যবস্থা নিয়েছে তা তারাই ভালো বলতে পারবে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভাঙন রোধে এখন ওই এলাকায় জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলার কাজ চলছে। এ ছাড়া ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেওয়া আছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।